নিজস্ব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির ওপর হামলা, মারধর, টাকা ছিনতাই, বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করে অষ্টগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার মধ্য অষ্টগ্রাম কলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর মিয়া (৩৯)।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার জমি-সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। পাশাপাশি তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করে আসছিলেন।
তার দাবি, অভিযুক্তদের স্বজন আনাছ আলী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন সময়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। সর্বশেষ ৭২ পিস ইয়াবাসহ আটক হওয়ার পর পূর্বের আরও মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি পুলিশকে তথ্য দিয়ে আনাছ আলীকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করেছিলেন এমন ধারণা থেকে অভিযুক্তরা তার ও তার পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে।অভিযোগে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ছেলের জন্য মদিনা মার্কেটের একটি মাদ্রাসায় খাবার পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মদিনা মার্কেট এলাকায় তার গতিরোধ করা হয়।
এ সময় অভিযুক্তরা তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। তিনি প্রতিবাদ করলে কয়েকজন মিলে তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে আহত করে। একপর্যায়ে তার প্যান্টের পকেটে থাকা ধান বিক্রির ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে একই রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দা, লাঠি, লোহার রড, বল্লম, কিরিচ ও চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বল্লম দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়। তিনি সরে গেলে বল্লমের আঘাত ঘরের বিছানায় লাগে।
এ সময় তার কোলে থাকা শিশু সন্তানকে হত্যার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার সময় তাকে, তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে হত্যার হুমকি দেয়। এমনকি হত্যা করে মরদেহ গুম করে বিল মাসকা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। হামলার ঘটনায় আহত হওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসা শেষে তিনি অষ্টগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় সবুজ মিয়া, লালন মিয়া, মোজাহিদ মিয়া, সুজাহিদ মিয়া, সেবিকা আক্তার, পাখি বেগম, সুমাইয়া আক্তার ও সিপার মিয়াসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, আনাছ আলীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ভুক্তভোগীর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
