শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর

নিজস্ব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৩৬ নং উত্তর আব্দুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
‎ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী শান্তনা আক্তার (৪র্থ শ্রেণি), পিতা আসাদুল্লাহ মিয়া, স্কুলের নিচতলায় এক হকারের কাছ থেকে বেলপুরি কিনে দ্বিতীয় তলায় ওঠার সময় প্রধান শিক্ষক তাকে নিচতলার একটি অন্ধকার স্থানে নিয়ে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন এবং জোরপূর্বক অসদাচরণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মেয়েটি চিৎকার করলে সে আত্মরক্ষা করে দ্রুত বাসায় ফিরে বিষয়টি তার মাকে জানায়।
‎পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
‎অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ হারুন অর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমাকে বদলি করানোর উদ্দেশ্যে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ কামাল আহমেদ তাকে সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছিলেন—তিনি বদলি হলে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে।
‎তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী শিক্ষক মোঃ কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক আমার আত্মীয়। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।”
‎এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আতিকুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
‎ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *