অষ্টগ্রামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৭শ থেকে ১৯শ টাকায়, ক্যাশ মেমো দিচ্ছে না ব্যবসায়ীরা, নেই কার্যকর নজরদারি।

নিজস্ব প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে কোথাও কোথাও ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও কার্যকর কোনো প্রশাসনিক তদারকি চোখে পড়ছে না। উপরন্তু, কোনো ব্যবসায়ী ক্রেতাদের ক্যাশ মেমো প্রদান করছেন না, যা ভোক্তা অধিকার আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

‎সরেজমিনে অষ্টগ্রাম বড় বাজার, বৌ বাজার, পূর্ব অষ্টগ্রাম আখড়া বাজার, সাভিয়া নগর বাজার, কাস্তুল বাজার, বাঙ্গালপাড়া বাজার ও মৌলবী বাজার ঘুরে দেখা যায় দোকানভেদে এলপিজি সিলিন্ডারের দামে ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। নির্ধারিত দামের বিষয়ে জানতে চাইলে অনেক ব্যবসায়ী এড়িয়ে যান এবং ক্যাশ মেমো না থাকার অজুহাত দেখান।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অষ্টগ্রাম বড় বাজারের এক চা ব্যবসায়ী বলেন,

‎“গ্যাস ছাড়া দোকান চালানো যায় না। বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু কোনো দোকানই ক্যাশ মেমো দেয় না ফলে অভিযোগ করার মতো প্রমাণও থাকে না।”

‎আরেক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চা ব্যবসায়ী জানান,

‎“ক্যাশ মেমো চাইলে বলে নিতে হলে নেন, না হলে থাক। প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই বলেই তারা এমন করছে।”

‎স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, ক্যাশ মেমো না দেওয়ার কারণে অতিরিক্ত দামে বিক্রির বিষয়টি প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে করে অসাধু ব্যবসায়ীরা দায়মুক্তি পাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন,

‎“নির্বাচন বিষয়ক কাজ নিয়ে আমি বর্তমানে ব্যস্ত আছি। তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল আহাদ এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।”

‎এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল আহাদ জানান,

‎“আমরা খুব দ্রুত এ বিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব।”

‎স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার, ক্যাশ মেমো প্রদান বাধ্যতামূলক করা এবং অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *