নাদিরুজ্জামান আজমল

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত উপজেলা অষ্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল জুলাই বিপ্লবী ছাত্র জনতা। বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বাদ মাগরিব উপজেলার উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে তা অষ্টগ্রাম বড় বাজারের মূল সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামতলী মোড় হয়ে অষ্টগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে শহীদ মিনারে গিয়ে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা জোরালো স্লোগানের মাধ্যমে হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা, দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা, হাদি ভাই কবরে, খুনি কেন ভারতে? যে ভারত খুনি পালে, সেই ভারত ভেঙে দাও, ভারতীয় আধিপত্য ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ, আপস না সংগ্রাম সংগ্রাম সংগ্রাম, মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ, লীগ ধর, জবাই কর, বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই, আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো সহ নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে নৃশংস ও বর্বর উল্লেখ করে বিক্ষোভকারীরা বলেন, এই হত্যাকাণ্ড সমাজে ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তারা দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল খুনিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান। তারা বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে এ ধরনের অপরাধ বারবার ঘটতে থাকবে। ওসমান হাদি ছিলেন একজন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ও সমাজের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে সোচ্চার একজন নেতা। তার হত্যার মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। বিক্ষোভ মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান।
বিক্ষোভ চলাকালে অষ্টগ্রামে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ উপস্থিত ছিলেন, রফিকুল ইসলাম মাহির, শেখ সাদী, মোঃ রামিন, মোঃ সিফাত, আঃ রহমান মানিক, হৃদয়, আতিউল, আকিব প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদী ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচার চালাচ্ছিলেন। গত শুক্রবার দুপুরে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। গত সোমবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
