‎হত্যা মামলাসহ নানা অভিযোগ মাথায় নিয়েও  স্বপদে বহাল মিঠামইনের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সোলাইমান

বিশেষ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ও গোপদিঘী ইউনিয়ন ভূমি  সহকারি  কর্মকর্তা  ( নায়েব) মোঃসোলাইমান মিয়ার  বিরুদ্ধে  প্রশাসনিক কাজে চরম  দুর্নীতি, অনিয়ম,  ঘুষ বাণিজ্য সহ হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে।   তিনি  মিঠামইন উপজেলার  স্থানীয় বাসিন্দা ।নিজের উপজেলাতেই  বছরের  পর বছর দাপটের সাথে  চাকরি করছেন।

‎জানা গেছে,  ইউনিয়ন  ভূমি  সহকারি কর্মকর্তা সোলাইমান মিয়ার  নিজ উপজেলা মিঠামইনের   গোপদিঘী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত আছেন  । এছাড়াও তিনিএ উপজেলার  ঘাগড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন । এর আগেও    তিনি  ঘাগড়া ইউনিয়ন  ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন। ঘাগড়ার ইউনিয়ন
ভূমি অফিসের   দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি প্রশাসনিক কাজে চরম দুর্নীতি সহ ঘুষ বাণিজ্য শুরু করেছেন বলে  অভিযোগ উঠেছে। সোলাইমান মিয়া  বহিরাগত  লোক দিয়ে ঘুষ  আদায় করে নিচ্ছেন। তার   নানা ধরনের অনিয়ম, স্বজন প্রীতির কারণে ঘাগড়া ও গোপদিঘী ভূমি অফিস এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।   অভিযোগ রয়েছে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কেউ  কোন কাজ করতে পারছেন না।
‎    ঘাগড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পাশের জায়গাটির রেকর্ড মূলে মালিক  সিরাজুল হক ভূইয়া গং।  ভূমির মালিকপক্ষ  বিগত বছরগুলোতে  সরকারের  কোষাগারে রাজস্ব   দিয়ে  আসছেন কিন্তু  সোলাইমান মিয়া  এ অফিসের দায়িত্ব নেয়ার পর    ভূমির কর পরিশোধ করতে পারছেন না মালিকপক্ষ ।

‎এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে   সোলাইমান  ঘুষের বিনিময়ে ভিপি খতিয়ান ভূক্ত জমির কর আদায়ের রশিদ   দিচ্ছেন ঠিকই।
‎ভূমি  সহকারি  কর্মকর্তা সোলাইমান মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান ভূমি অফিসের পাশের    জায়গার মালিক তারা কেউ না। বাজার হিসেবে   জায়গাটি পেরিফেরি  ভুক্ত।  তাই তাদের কাছ থেকে  ভূমির কর নেওয়া হচ্ছে না।  ভূমি সহকারি  কর্মকর্তার এ সব  কর্মকান্ড নিয়ে এলাকায়  নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।  তাহলে  ভূমি সহকারি কর্মকর্তার নাকের ডগায়  সরকারি জায়গাতে  ঘর  তুললো কিভাবে?   অবৈধ   দখল  উচ্ছেদের বিষয়ে তিনি  ব্যবস্থা ও নিচ্ছেন না কেন? ‘অভিযোগ উঠেছে ভূমি সহকারি  কর্মকর্তা মোটা অংকের  টাকার বিনিময়ে  পুরান বাজারের  পতিত জায়গাতে  বালু ব্যবসায়ীকে  দখল দিয়েছেন । এই নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এখন বিরোধ দেখা দিয়েছে।
‎খবর নিয়ে জানা গেছে  সুলাইমান মিয়া মিঠামইন  উপজেলার কেওয়ারজোর  ইউনিয়নের কুড়ারকান্দি গ্রামের  স্থায়ী বাসিন্দা। মিঠামইন  উচ্চ বিদ্যালয়  থেকে এস এস সি পাস করেন।  ছাত্র জীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের সাথে জড়িত। মুজিব বাদী হিসেবে এলাকায় পরিচিত তিনি।  এক সময় সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের এবং তার ভাই প্রিন্সিপাল আব্দুল হক নুরুর প্রিয়ভাজনক ছিলেন । সেই সুবাদে সোলাইমান মিয়া ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি পাওয়ার পর থেকে মিঠামইন উপজেলার সবকটি  ইউনিয়নের ভূমি অফিসে ঘুরেফিরে চাকরি করছেন বারবার।  সূত্র মতে তিনি মনসুর আলী হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর আত্মগোপন অবস্থায় চাকরি করেছেন  করিমগঞ্জ ও তারাইল উপজেলাতে।  আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর  তার  রাজনৈতিক ধারারও পরিবর্তন ঘটে।  উচ্চ মহলে  তদবির  করে  আবার ও তিনি  তার নিজ উপজেলা মিঠামইনে এসে চাকরি করছেন দাপটের সাথে । ফলে ভূমির মালিকের ভোগান্তি এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আওয়ামী লীগের সময়   প্রিন্সিপাল নুরুর  ছত্র ছায়ায় থেকে  এই ভূমি কর্মকর্তা
‎ সোলাইমান   মিয়া  হয়ে উঠেছেন আঙ্গুল ফুলে  কলা গাছ। প্রিন্সিপাল নুরুর হাত ধরে তার স্ত্রী ও চাকরি নিয়েছেন হাজী  তাহেব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে।
‎  ২০২০সালের ১নভেম্বর  মনসুর আলী ( ৬৫) কে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মিঠামইন থানার মামলা নাম্বার ২/৫১তারিখ৫/১১/২০২০ইং। নিহতের  কন্যা মামলার বাদি রহিমা আক্তার এ প্রতিবেদককে  জানান  আসামি  সোলাইমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত । অথচ তিনি বিভিন্ন জায়গায় টাকা ছিটিয়ে    মামলার চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।  ফলে মামলার বাদি চার্জশিটের বিপক্ষে আদালতে নারাজির আবেদন করায় বিজ্ঞা   আদালত মামলার  শুনানির  দিন ধার্য্য করেছেন।ভুক্তভোগীরা তার প্রশাসনিক কাজের তদন্ত করে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *