তারেক রহমানকে ঘিরেই রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে চায় বিএনপি

এটিভি অনলাইন ডেস্ক:

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের মূল নেতৃত্বে আসেন তারেক রহমান। এসেই লক্ষ্য নির্ধারণ করেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার। এরপর ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দল এবং দেশকে তিনি এখন গণতন্ত্রে উত্তোরণের একেবারে দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে। বিএনপির এখন মূল লক্ষ্য আগামী জাতীয় নির্বাচন। এমন অবস্থায় নির্বাচন, নির্বাচনপরবর্তী সরকার গঠন এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি যে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তা তারেক রহমানকে ঘিরেই।

‎২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন তারেক রহমানের দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন। তাদের প্রত্যাশা, দেশে ফিরে আগামী নির্বাচনে তিনিই মাঠের নেতৃত্ব দিবেন। নেতাকর্মীদের এমন প্রত্যাশার মধ্যে আজ সোমবার বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হবে।

‎একান্ত বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মূলত সেখানেই আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে নির্বাচনের সময় নির্ধারিত হয়। এটাকেও তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বের উদাহরণ বলছেন দলটির নেতারা।

‎বিএনপির এখন লক্ষ্য জাতীয় নির্বাচন। বিএনপি বিদ্যমান পদ্ধতিতেই নির্বাচন চাইলেও জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি অব্যাহত রেখেছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, পিআর না হলে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। এমন অবস্থায় সরকারকে সহযোগিতা করতে কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনের পথে নেয়া যায়, সেটাই এখন তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য বলে দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে আগামী নির্বাচনে কীভাবে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করা যায়, সেটা নিয়েও কাজ করছেন। পাশাপাশি আগামীতে জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে ৩১ দফার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে কীভাবে সাধারণ মানুষের ভাগ্য ও জীবনমানের উন্নয়ন করা যায়, বেশ আগে থেকেই কাজ করছেন তা নিয়েও। এককথায় বিএনপির মাধ্যমে অতীতের মতো আগামীতেও যাতে দেশবাসী উপকৃত হয়- এ জন্য প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি দিন দলের পেছনে ব্যয় করছেন তারেক রহমান।


‎জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশে তিনবার গণতন্ত্র মহাসংকটে পড়েছে, প্রতিবারই গণতন্ত্র উত্তোরণে জিয়া পরিবার অর্থাৎ কখনো বাবা, কখনো মা, কখনো ছেলে শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে। সর্বশেষ ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত গণতন্ত্র সংকটে পড়ে। বাবা, মা’র ধারাবাহিকতায় এই দীর্ঘ সামরিক শাসনের অবসানেও তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে তারেক রহমানের হাত ধরে দেশের গণতন্ত্রে উত্তোরণের প্রচেষ্টা চলছে, সেই লড়াইটা একটা সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে শেষ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *